ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লকডাউন না হলে ফ্রান্সে মারা যেতো ৬ লাখ ৯০ হাজার মানুষ : যুক্তরাজ্য গবেষক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫
  • ৫৯০ বার পড়া হয়েছে

লকডাউন না আরোপ করা হলে শুধু ফ্রান্সে মারা যেতো ৬ লাখ ৯০ হাজার মানুষ আর ইউরোপে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু মিছিল দেখতে হতো বলে উল্লেখ করেছেন লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইমপেরিয়াল কলেজের একদল গবেষক ।
তাদের গেষনায় উঠে এসেছে, যুক্তরাজ্যে মারা যেত চার লাখ ৭০ হাজার। যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ জনে সাতজন করোনায় আক্রান্ত হতো। গবেষকদের দাবি, ইউরোপে ৩০ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে এই লকডাউন পদ্ধতি।
গবেষকরা হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘মহামারি নভেল করোনাভাইরাস এখনো শুরুর স্তরেই’ রয়েছে এবং অল্প কিছু লোকই এতে আক্রান্ত হয়েছে। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, লকডাউন পদ্ধতি এবারই সবচেয়ে কার্যকর হয়েছে। এর আগে কখনো এটি এতটা কাজে লাগেনি।
মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইউরোপের ১১টি দেশ—অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে গবেষণা চালান ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকরা। এ সময়ে দেশগুলোতে করোনায় এক লাখ ৩০ হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
গবেষকদের ভাষ্যমতে, দেশগুলোতে লকডাউন না দেওয়া হলে, মানুষজনকে ঘরে থাকতে না বললে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক গতিতে চালালে গত ৪ মে থেকে এ পর্যন্ত ৩২ লাখ মানুষের মৃত্যু হতো।
ইম্পেরিয়ালের গবেষকদের অন্যতম ড. সেথ ফ্ল্যাক্সম্যান বলেন, লকডাউন লাখো মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করেছে। বিশ্বখ্যাত জার্নাল নেচারে তাঁদের কাজ নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে লকডাউন না প্রয়োগ করা হলে মানুষজন এতটা সচেতন হতে পারত না।
ইম্পেরিয়াল গবেষকদের আরেকজন সামির ভাট বলেন, এখন যদি আগের মতো অবাধ চলাফেরা শুরু হয়, তাহলে সামনে মাসে বা তার পরের মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলের পৃথক গবেষণায় বলা হয়েছে, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন অন্তত ৫৩ কোটি মানুষকে করোনা আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

লকডাউন না হলে ফ্রান্সে মারা যেতো ৬ লাখ ৯০ হাজার মানুষ : যুক্তরাজ্য গবেষক

আপডেট সময় : ১১:২৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫

লকডাউন না আরোপ করা হলে শুধু ফ্রান্সে মারা যেতো ৬ লাখ ৯০ হাজার মানুষ আর ইউরোপে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু মিছিল দেখতে হতো বলে উল্লেখ করেছেন লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইমপেরিয়াল কলেজের একদল গবেষক ।
তাদের গেষনায় উঠে এসেছে, যুক্তরাজ্যে মারা যেত চার লাখ ৭০ হাজার। যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ জনে সাতজন করোনায় আক্রান্ত হতো। গবেষকদের দাবি, ইউরোপে ৩০ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে এই লকডাউন পদ্ধতি।
গবেষকরা হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘মহামারি নভেল করোনাভাইরাস এখনো শুরুর স্তরেই’ রয়েছে এবং অল্প কিছু লোকই এতে আক্রান্ত হয়েছে। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, লকডাউন পদ্ধতি এবারই সবচেয়ে কার্যকর হয়েছে। এর আগে কখনো এটি এতটা কাজে লাগেনি।
মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইউরোপের ১১টি দেশ—অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে গবেষণা চালান ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকরা। এ সময়ে দেশগুলোতে করোনায় এক লাখ ৩০ হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
গবেষকদের ভাষ্যমতে, দেশগুলোতে লকডাউন না দেওয়া হলে, মানুষজনকে ঘরে থাকতে না বললে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক গতিতে চালালে গত ৪ মে থেকে এ পর্যন্ত ৩২ লাখ মানুষের মৃত্যু হতো।
ইম্পেরিয়ালের গবেষকদের অন্যতম ড. সেথ ফ্ল্যাক্সম্যান বলেন, লকডাউন লাখো মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করেছে। বিশ্বখ্যাত জার্নাল নেচারে তাঁদের কাজ নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে লকডাউন না প্রয়োগ করা হলে মানুষজন এতটা সচেতন হতে পারত না।
ইম্পেরিয়াল গবেষকদের আরেকজন সামির ভাট বলেন, এখন যদি আগের মতো অবাধ চলাফেরা শুরু হয়, তাহলে সামনে মাসে বা তার পরের মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলের পৃথক গবেষণায় বলা হয়েছে, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন অন্তত ৫৩ কোটি মানুষকে করোনা আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে।