ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষায় আম কতটা উপকারী?

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

গ্রীষ্মকালীন ফলগুলোর মধ্যে প্রায় প্রত্যেকেই আম খেতে পছন্দ করেন। সব বয়সের মানুষের কাছেই এই ফল ব্যাপক জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য। আমের এই জনপ্রিয়তা কেবলমাত্র স্বাদের দিক থেকে নয়, এর রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতাও। এতে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন কে এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ, যা বিভিন্ন রোগের জন্য খুবই উপকারী।

এ ছাড়া সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের ত্বককে রক্ষা করতে পারে আম। তাই গরমের এই প্রবল তাপ থেকে দেহকে এবং ত্বককে রক্ষা করতে আমের বিকল্প আর হয় না। এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক- অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে দেহকে রক্ষা করতে আম কতটা উপকারী?

অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আম কীভাবে রক্ষা করে

সূর্যজনিত ক্ষতি শব্দটির অর্থ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দ্বারা চামড়ার ক্ষতিকে বোঝায়। সূর্যের এই অতিবেগুনি আলো বিকিরণ তৈরি করে, যাকে বলা হয় ইউভি রেডিয়েশন। এই বিকিরণ বৈদ্যুতিক চুম্বকীয় বিকিরণের একটি রূপ। নির্গত হওয়া ইউভি রেডিয়েশন মানবদেহের ত্বকের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর, যা বলিরেখা, কালো দাগসহ অন্যান্য অনেক সমস্যা তৈরি করে।

সমীক্ষার বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বোল্ড স্কাই জানিয়েছে, আমের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সূর্য থেকে হওয়া চামড়ার ক্ষতি রোধ করতে সাহায্য করে। চুলবিহীন ইঁদুরের ওপর UVB দ্বারা ত্বকের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে আমের প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা মূল্যায়ন করার জন্য সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই সমীক্ষায় পাকা আম ব্যবহার করা হয়।

আমে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং ইমিউনোমডিউলেটরি গুণগুলো সূর্যের ক্ষতি থেকে বাঁচায়। আবার এতে থাকা ভিটামিন-সি ফ্রি রেডিক্যালস্-এর বিরুদ্ধে লড়াই করে সূর্যের ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মি দ্বারা ত্বকের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করতে সাহায্য করে।

অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আমের শাঁস ছাড়া আমের খোসাও ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মির সঙ্গে লড়াই করতে সহায়ক। আমের খোসাটি Mangiferin, Norathyriol, Resveratrol এবং Quercetin এর মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরা থাকে, যা ইউভি রশ্মির প্রভাবে হওয়া ত্বকের ক্ষয়ক্ষতিকে রক্ষা করতে অত্যন্ত কার্যকর।

পুষ্টিগুণ

আমে থাকে ভিটামিন এ, সি, বি-৬, ভিটামিন-কে, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ইত্যাদি। এ ছাড়া ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম, বিটা ক্যারোটিন, কপার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এতে ফ্যাটের পরিমাণ খুব অল্প থাকে। আম ছাড়া যে ফল এবং শাকসবজিগুলো সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করতে সহায়তা করে তা দেখে নিন-

অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

১) আমে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই, যা যৌন জীবনকে উন্নত করতে সাহায্য করে।

২) হজমের সমস্যা দূর করে।

৩) শরীরকে ঠান্ডা রাখে।

৪) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে।

৫) চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে।

৬) গাছ পাকা আম ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সুগার লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

৭) কোলন, স্তন, প্রস্টেট, লিউকেমিয়া প্রভৃতি ক্যানসার থেকে রক্ষা করে।

৮) ব্রণ এবং ত্বককে অন্যান্য সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষায় আম কতটা উপকারী?

আপডেট সময় : ১১:২৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫

গ্রীষ্মকালীন ফলগুলোর মধ্যে প্রায় প্রত্যেকেই আম খেতে পছন্দ করেন। সব বয়সের মানুষের কাছেই এই ফল ব্যাপক জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য। আমের এই জনপ্রিয়তা কেবলমাত্র স্বাদের দিক থেকে নয়, এর রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতাও। এতে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন কে এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ, যা বিভিন্ন রোগের জন্য খুবই উপকারী।

এ ছাড়া সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের ত্বককে রক্ষা করতে পারে আম। তাই গরমের এই প্রবল তাপ থেকে দেহকে এবং ত্বককে রক্ষা করতে আমের বিকল্প আর হয় না। এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক- অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে দেহকে রক্ষা করতে আম কতটা উপকারী?

অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আম কীভাবে রক্ষা করে

সূর্যজনিত ক্ষতি শব্দটির অর্থ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দ্বারা চামড়ার ক্ষতিকে বোঝায়। সূর্যের এই অতিবেগুনি আলো বিকিরণ তৈরি করে, যাকে বলা হয় ইউভি রেডিয়েশন। এই বিকিরণ বৈদ্যুতিক চুম্বকীয় বিকিরণের একটি রূপ। নির্গত হওয়া ইউভি রেডিয়েশন মানবদেহের ত্বকের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর, যা বলিরেখা, কালো দাগসহ অন্যান্য অনেক সমস্যা তৈরি করে।

সমীক্ষার বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বোল্ড স্কাই জানিয়েছে, আমের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সূর্য থেকে হওয়া চামড়ার ক্ষতি রোধ করতে সাহায্য করে। চুলবিহীন ইঁদুরের ওপর UVB দ্বারা ত্বকের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে আমের প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা মূল্যায়ন করার জন্য সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই সমীক্ষায় পাকা আম ব্যবহার করা হয়।

আমে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং ইমিউনোমডিউলেটরি গুণগুলো সূর্যের ক্ষতি থেকে বাঁচায়। আবার এতে থাকা ভিটামিন-সি ফ্রি রেডিক্যালস্-এর বিরুদ্ধে লড়াই করে সূর্যের ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মি দ্বারা ত্বকের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করতে সাহায্য করে।

অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আমের শাঁস ছাড়া আমের খোসাও ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মির সঙ্গে লড়াই করতে সহায়ক। আমের খোসাটি Mangiferin, Norathyriol, Resveratrol এবং Quercetin এর মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরা থাকে, যা ইউভি রশ্মির প্রভাবে হওয়া ত্বকের ক্ষয়ক্ষতিকে রক্ষা করতে অত্যন্ত কার্যকর।

পুষ্টিগুণ

আমে থাকে ভিটামিন এ, সি, বি-৬, ভিটামিন-কে, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ইত্যাদি। এ ছাড়া ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম, বিটা ক্যারোটিন, কপার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এতে ফ্যাটের পরিমাণ খুব অল্প থাকে। আম ছাড়া যে ফল এবং শাকসবজিগুলো সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করতে সহায়তা করে তা দেখে নিন-

অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

১) আমে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই, যা যৌন জীবনকে উন্নত করতে সাহায্য করে।

২) হজমের সমস্যা দূর করে।

৩) শরীরকে ঠান্ডা রাখে।

৪) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে।

৫) চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে।

৬) গাছ পাকা আম ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সুগার লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

৭) কোলন, স্তন, প্রস্টেট, লিউকেমিয়া প্রভৃতি ক্যানসার থেকে রক্ষা করে।

৮) ব্রণ এবং ত্বককে অন্যান্য সমস্যা থেকে রক্ষা করে।