ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বসনিয়ার জঙ্গল থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে আইওএমের বার্তা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪
  • ৩৫২ বার পড়া হয়েছে

ইউরোপের দেশ ইতালি বা ফ্রান্সে ঢোকার জন্য বসনিয়ার জঙ্গলে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম থেকে সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে৷

সম্প্রতি কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জঙ্গলে অবস্থান করা বাংলাদেশিদের করুণ অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে৷ পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনে সংবাদ প্রকাশের পর আইওএমের বাংলাদেশ অফিস থেকে গত মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করা হয়েছে৷ তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি৷ নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘‘সরকার চাইলেই তো তাদের ফিরিয়ে আনতে পারে না৷ এছাড়া যারা আটকে রয়েছে তারা কি ফিরে আসতে চান? সেটাও তো আমরা নিশ্চিত নই৷ ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷’’

অভিবাসন ও উদ্বাস্তু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, ‘প্রথম কথা হলো, তারা বাংলাদেশী নাগরিক৷ তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সরকার নিতে হবে৷ কিন্তু সেখানেও নানা জটিলতা আছে৷ সেই প্রক্রিয়াটি কি হবে? এই ফিরিয়ে আনার খরচ কে দেবে? এমন হতে পারে যারা অবৈধভাবে সেখানে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনবে সরকার, কিন্তু দেশে ফেরার পর খরচের টাকা তাদেরকেই দিতে হবে৷ আবার যারা অবৈধভাবে বিদেশে যাচ্ছেন তাদের যদি এভাবে সরকার ফিরিয়ে আনতে শুরু করে তাহলে অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এমনটিও কেউ মনে করতে পারে৷ ফলে সরকারকেই একটা পথ বের করতে হবে৷ কারণ যারা সেখানে আছে, তারা তো বাংলাদেশের নাগরিক, এটা তো আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না৷’’

জানা গেছে, অবৈধ পথে ইতালিতে ঢুকতে অনেকেই নতুন রুট বলকানের দেশ বসনিয়া, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছে৷ মূলত ক্রোয়েশিয়া থেকে অ্যাড্রিয়াটিক সাগর পাড়ি দিয়ে লোকজনকে ইতালি পাঠাচ্ছে চক্রটি৷ নতুন এই পথে ইতালি যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা গত তিন বছরে পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে৷ গত নয় মাসে দুই হাজার ৫৫৩ জন বাংলাদেশি বসনিয়া পৌঁছেছেন৷ সেখানে তারা নাম নিবন্ধন করেছেন৷ এদের শেষ গন্তব্য ইতালি৷ আইওএম কর্মকর্তারা জানান, বৈধ-অবৈধ যাই হোক, বসনিয়ায় এসে অভিবাসীদের নাম নিবন্ধন করতে হয়৷ গত তিন বছরে নিবন্ধনকারী বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার৷

ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘‘ফিরিয়ে আনার একটা প্রক্রিয়া আছে৷ বহু অবৈধ অভিবাসীকে সরাকার ফিরিয়ে আনছে৷ কত মানুষকে এভাবে আনবে? আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করব বসনিয়ার জঙ্গলে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা হোক৷ সরকার ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তারা তো আসতে চান না৷ যখন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে তখন দেখা যাচ্ছে তারা সেখান থেকে পালিয়ে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছেন৷ ফলে যারা সেখানে গেছেন তারা জেনে-বুঝেই গেছেন৷ পাঁচ লাখ থেকে শুরু করে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত তারা খরচ করেছেন৷ এখন দেশে ফিরে তারা কি করবেন? এই কারণে অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করতে সরকারের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারেও সচেতনতা দরকার৷ আপনি দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও দেখবেন কামানের সামনে দিয়ে অনেকে অবৈধভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন৷ ফলে পরিবার থেকেই সচেতনতা দরকার৷’’

বাংলাদেশ জনশক্তি রফতানি ব্যুরোর মহাপরিচালক শামসুল বলেন, ‘‘প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এখনও বসনিয়ার জঙ্গলে আটকে থাকাদের ব্যাপারে আমাদের কিছু বলেনি৷ আইওএম অনুরোধ করলে নিশ্চয় মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবে৷ তখন আমরা এ বিষয়ে বলতে পারব৷’’ যোগাযোগ করা হলে বসনিয়ার জঙ্গলে আটকে থাকাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তা সরাসরি বক্তব্য দিতে রাজি হননি৷ DW

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

বসনিয়ার জঙ্গল থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে আইওএমের বার্তা

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

ইউরোপের দেশ ইতালি বা ফ্রান্সে ঢোকার জন্য বসনিয়ার জঙ্গলে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম থেকে সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে৷

সম্প্রতি কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জঙ্গলে অবস্থান করা বাংলাদেশিদের করুণ অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে৷ পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনে সংবাদ প্রকাশের পর আইওএমের বাংলাদেশ অফিস থেকে গত মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করা হয়েছে৷ তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি৷ নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘‘সরকার চাইলেই তো তাদের ফিরিয়ে আনতে পারে না৷ এছাড়া যারা আটকে রয়েছে তারা কি ফিরে আসতে চান? সেটাও তো আমরা নিশ্চিত নই৷ ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷’’

অভিবাসন ও উদ্বাস্তু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, ‘প্রথম কথা হলো, তারা বাংলাদেশী নাগরিক৷ তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সরকার নিতে হবে৷ কিন্তু সেখানেও নানা জটিলতা আছে৷ সেই প্রক্রিয়াটি কি হবে? এই ফিরিয়ে আনার খরচ কে দেবে? এমন হতে পারে যারা অবৈধভাবে সেখানে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনবে সরকার, কিন্তু দেশে ফেরার পর খরচের টাকা তাদেরকেই দিতে হবে৷ আবার যারা অবৈধভাবে বিদেশে যাচ্ছেন তাদের যদি এভাবে সরকার ফিরিয়ে আনতে শুরু করে তাহলে অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এমনটিও কেউ মনে করতে পারে৷ ফলে সরকারকেই একটা পথ বের করতে হবে৷ কারণ যারা সেখানে আছে, তারা তো বাংলাদেশের নাগরিক, এটা তো আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না৷’’

জানা গেছে, অবৈধ পথে ইতালিতে ঢুকতে অনেকেই নতুন রুট বলকানের দেশ বসনিয়া, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছে৷ মূলত ক্রোয়েশিয়া থেকে অ্যাড্রিয়াটিক সাগর পাড়ি দিয়ে লোকজনকে ইতালি পাঠাচ্ছে চক্রটি৷ নতুন এই পথে ইতালি যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা গত তিন বছরে পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে৷ গত নয় মাসে দুই হাজার ৫৫৩ জন বাংলাদেশি বসনিয়া পৌঁছেছেন৷ সেখানে তারা নাম নিবন্ধন করেছেন৷ এদের শেষ গন্তব্য ইতালি৷ আইওএম কর্মকর্তারা জানান, বৈধ-অবৈধ যাই হোক, বসনিয়ায় এসে অভিবাসীদের নাম নিবন্ধন করতে হয়৷ গত তিন বছরে নিবন্ধনকারী বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার৷

ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘‘ফিরিয়ে আনার একটা প্রক্রিয়া আছে৷ বহু অবৈধ অভিবাসীকে সরাকার ফিরিয়ে আনছে৷ কত মানুষকে এভাবে আনবে? আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করব বসনিয়ার জঙ্গলে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা হোক৷ সরকার ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তারা তো আসতে চান না৷ যখন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে তখন দেখা যাচ্ছে তারা সেখান থেকে পালিয়ে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছেন৷ ফলে যারা সেখানে গেছেন তারা জেনে-বুঝেই গেছেন৷ পাঁচ লাখ থেকে শুরু করে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত তারা খরচ করেছেন৷ এখন দেশে ফিরে তারা কি করবেন? এই কারণে অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করতে সরকারের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারেও সচেতনতা দরকার৷ আপনি দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও দেখবেন কামানের সামনে দিয়ে অনেকে অবৈধভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন৷ ফলে পরিবার থেকেই সচেতনতা দরকার৷’’

বাংলাদেশ জনশক্তি রফতানি ব্যুরোর মহাপরিচালক শামসুল বলেন, ‘‘প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এখনও বসনিয়ার জঙ্গলে আটকে থাকাদের ব্যাপারে আমাদের কিছু বলেনি৷ আইওএম অনুরোধ করলে নিশ্চয় মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবে৷ তখন আমরা এ বিষয়ে বলতে পারব৷’’ যোগাযোগ করা হলে বসনিয়ার জঙ্গলে আটকে থাকাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তা সরাসরি বক্তব্য দিতে রাজি হননি৷ DW