ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘১০ ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামবেন খালেদা জিয়া’

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫
  • ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

আইনি জটিলতা ও অসুস্থতায় দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠের বাইরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার অনুপস্থিতিতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তারপরও দলের ঐক্যের প্রতীক খালেদা জিয়াই। এ কারণে তাকে ঘিরেই সরকার পতন আন্দোলনের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে দলটি।

সম্প্রতি ১০টি সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সর্বশেষ মহাসমাবেশ হবে ঢাকায়। সেখানে তারা উপস্থিত রাখতে চান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে।

দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া। প্রতিবাদে দলের পক্ষে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হলেও নেত্রীকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হন তারা। করোনা মহামারির সময় পরিবারের আবেদনে দণ্ড স্থগিত করে নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। শর্ত দেওয়া হয়, তাকে দেশেই থাকতে হবে, বিদেশে যাওয়া যাবে না। এ ছাড়া তিনি সক্রিয় রাজনীতি করতে পারবেন না—এমন শর্তও দেওয়া হয় বলে জানা যায়। কারাগার থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়া গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় ওঠেন। এখনো তিনি সেখানেই থাকছেন।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বরের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথায় দেশ চলবে। আর কারও কথায় দেশ চলবে না।’

আমান উল্লাহ আমানের বক্তব্যকেই ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ধারণা করা হচ্ছে, ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশে খালেদা জিয়াকে আনার পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

তার এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গত সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমানের এক বক্তব্যেই আপনারা (সরকার) সবাই ভয় পেয়ে গেছেন। ভয়ের কিছু নেই, আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। দ্রুত সেফ এক্সিট নেন, সংসদ ভেঙে দেন, নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। নয়তো পালাবার পথ পাবেন না।

খালেদা জিয়াকে সামনে রেখে আন্দোলন পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কালবেলাকে বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিএনপির ঐক্যের প্রতীক। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করে খালেদা জিয়াকে নিয়েই আমরা নির্বাচন করতে চাই। যে নির্বাচনে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না, সেই নির্বাচন বাংলাদেশে হবে না। সেই নির্বাচন জনগণ করতে দেবে না।

খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারকে আগে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। এরপর নিরপেক্ষ সরকার ও নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। তখন নির্ধারিত হতে পারে—কে নির্বাচন করতে পারবেন আর কে পারবেন না। এ নিয়ে আগ বাড়িয়ে তো বলার দরকার নেই। ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে কী বার্তা দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানান বিএনপির এই নীতি নির্ধারক।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা মোট ৩৭টি। এর মধ্যে ১৩টি মামলা ২০০৭ ও ২০০৮ সালে জরুরি শাসনকালে। মামলাগুলোর মধ্যে পাঁচটি দুর্নীতি মামলা, চারটি মানহানির এবং একটি রাষ্ট্রদ্রোহ। বাকি মামলা হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তার ১৭ বছরের সাজা হয়েছে। তিনি এখন সেই সাজা ভোগ করছেন।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

‘১০ ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামবেন খালেদা জিয়া’

আপডেট সময় : ১১:২৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫

আইনি জটিলতা ও অসুস্থতায় দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠের বাইরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার অনুপস্থিতিতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তারপরও দলের ঐক্যের প্রতীক খালেদা জিয়াই। এ কারণে তাকে ঘিরেই সরকার পতন আন্দোলনের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে দলটি।

সম্প্রতি ১০টি সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সর্বশেষ মহাসমাবেশ হবে ঢাকায়। সেখানে তারা উপস্থিত রাখতে চান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে।

দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া। প্রতিবাদে দলের পক্ষে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হলেও নেত্রীকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হন তারা। করোনা মহামারির সময় পরিবারের আবেদনে দণ্ড স্থগিত করে নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। শর্ত দেওয়া হয়, তাকে দেশেই থাকতে হবে, বিদেশে যাওয়া যাবে না। এ ছাড়া তিনি সক্রিয় রাজনীতি করতে পারবেন না—এমন শর্তও দেওয়া হয় বলে জানা যায়। কারাগার থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়া গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় ওঠেন। এখনো তিনি সেখানেই থাকছেন।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বরের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথায় দেশ চলবে। আর কারও কথায় দেশ চলবে না।’

আমান উল্লাহ আমানের বক্তব্যকেই ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ধারণা করা হচ্ছে, ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশে খালেদা জিয়াকে আনার পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

তার এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গত সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমানের এক বক্তব্যেই আপনারা (সরকার) সবাই ভয় পেয়ে গেছেন। ভয়ের কিছু নেই, আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। দ্রুত সেফ এক্সিট নেন, সংসদ ভেঙে দেন, নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। নয়তো পালাবার পথ পাবেন না।

খালেদা জিয়াকে সামনে রেখে আন্দোলন পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কালবেলাকে বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিএনপির ঐক্যের প্রতীক। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করে খালেদা জিয়াকে নিয়েই আমরা নির্বাচন করতে চাই। যে নির্বাচনে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না, সেই নির্বাচন বাংলাদেশে হবে না। সেই নির্বাচন জনগণ করতে দেবে না।

খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারকে আগে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। এরপর নিরপেক্ষ সরকার ও নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। তখন নির্ধারিত হতে পারে—কে নির্বাচন করতে পারবেন আর কে পারবেন না। এ নিয়ে আগ বাড়িয়ে তো বলার দরকার নেই। ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে কী বার্তা দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানান বিএনপির এই নীতি নির্ধারক।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা মোট ৩৭টি। এর মধ্যে ১৩টি মামলা ২০০৭ ও ২০০৮ সালে জরুরি শাসনকালে। মামলাগুলোর মধ্যে পাঁচটি দুর্নীতি মামলা, চারটি মানহানির এবং একটি রাষ্ট্রদ্রোহ। বাকি মামলা হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তার ১৭ বছরের সাজা হয়েছে। তিনি এখন সেই সাজা ভোগ করছেন।