ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতবর্ষী বৃদ্ধা মাকে বস্তায় ভরে রাস্তায় ফেলে গেলেন সন্তান

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪
  • ৪৬৯ বার পড়া হয়েছে

গভীর রাতে কনকনে ঠাণ্ডর মধ্যে শতবর্ষী বৃদ্ধা হাসিনা বেগমকে (১০৫) ছালার বস্তায় ভরে রাস্তার মধ্যে ফেলে গেছে পরিবারের লোকজন। ছবি : ইত্তেফাক
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে কনকনে ঠাণ্ডর মধ্যে শতবর্ষী বৃদ্ধা হাসিনা বেগমকে (১০৫) ছালার বস্তায় ভরে রাস্তার মধ্যে ফেলে গেছে পরিবারের লোকজন। পুলিশ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ বৃদ্ধার সেছলে ও নাতজামাইকে আটক করেছে।

পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর জন্মেজয় এলাকার শতবর্ষী বৃদ্ধা হাসিনা বেগম। স্বামী আবদুল খালেক মারা গেছেন ৩০ বছর আগে। একমাত্র মেয়ে জোসনাও মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর হলো। নিজের ছেলে সাহিদ ও দুই সেছলে দুলাল (৬২) জালাল (৫৯) ও তাদের ছেলেমেয়ে ও বৃদ্ধার মেয়ে জোসনার ছেলে-মেয়েরা নিজ নিজ সংসারে ভালোই আছে। কিন্তু তাদের কারো সংসারে শতবর্ষী বৃদ্ধার ঠাঁই হয়নি। বৃদ্ধাকে খেতে-পরতে দিতে চায় না বৃদ্ধার জীবিত কোনো সন্তান কিংবা সন্তানদের ছেলে-মেয়েরা। তাই কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার মধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে গফরগাঁও-ভালুকা সড়কের ষোলহাসিয়া এলাকায় তিতাস গ্যাস অফিসসংলগ্ন একটি দোকানের সামনে বৃদ্ধা হাসিনা বেগমকে তারা ফেলে রেখে যায়।

বুধবার ভোরে একটি ছালার ভেতরে সারা শরীর ও বাইরে মুখ বের করা অবস্থায় হাসিনা বেগমকে দেখতে পায় পথচারীরা। তারা গফরগাঁও থানা পুলিশকে খবর দিলে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পুলিশ বৃদ্ধার সেছলে দুলাল (৬২) ও দুলালের মেয়ের জামাই আনোয়ার হোসেনকে (৪০) আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বৃদ্ধার ছেলে সাহিদ ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া গ্রামে বাস করে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। তার দুই চোখ বেয়ে অশ্রু নেমে আসছে। তিনি কী যেন বলতে চাইছেন। কিন্তু শতবর্ষীর ক্ষীণ কণ্ঠে তা বোঝা যাচ্ছে না। বৃদ্ধার বাড়ি হাসপাতাল থেকে আধা কিলোমিটারের মধ্যে হলেও বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নেওয়ার ৫ ঘণ্টার মধ্যে তার পরিবারের কোনো সদস্য কিংবা কোনো আত্মীয়স্বজন দেখতে হাসপাতালে যায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, ৩০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে সংসারের হাল ধরে রেখেছিলেন হাসিনা বেগম। এখন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। চলাফেরাও করতে পারেন না তিনি। ছেলে ও পরিবারের লোকজনের কাছে হয়তো বোঝা হয়ে গেছেন তিনি।

গফরগাঁও থানার ওসি অনুকুল সরকার বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে বৃদ্ধা হাসিনা বেগমকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এখন বৃদ্ধাকে তার ছেলেদের কাছে কিংবা নাতিদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বৃদ্ধার যাতে কোনো অযত্ন না হয় সেজন্য থানা পুলিশ তদারকি করবে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

শতবর্ষী বৃদ্ধা মাকে বস্তায় ভরে রাস্তায় ফেলে গেলেন সন্তান

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

গভীর রাতে কনকনে ঠাণ্ডর মধ্যে শতবর্ষী বৃদ্ধা হাসিনা বেগমকে (১০৫) ছালার বস্তায় ভরে রাস্তার মধ্যে ফেলে গেছে পরিবারের লোকজন। ছবি : ইত্তেফাক
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে কনকনে ঠাণ্ডর মধ্যে শতবর্ষী বৃদ্ধা হাসিনা বেগমকে (১০৫) ছালার বস্তায় ভরে রাস্তার মধ্যে ফেলে গেছে পরিবারের লোকজন। পুলিশ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ বৃদ্ধার সেছলে ও নাতজামাইকে আটক করেছে।

পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর জন্মেজয় এলাকার শতবর্ষী বৃদ্ধা হাসিনা বেগম। স্বামী আবদুল খালেক মারা গেছেন ৩০ বছর আগে। একমাত্র মেয়ে জোসনাও মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর হলো। নিজের ছেলে সাহিদ ও দুই সেছলে দুলাল (৬২) জালাল (৫৯) ও তাদের ছেলেমেয়ে ও বৃদ্ধার মেয়ে জোসনার ছেলে-মেয়েরা নিজ নিজ সংসারে ভালোই আছে। কিন্তু তাদের কারো সংসারে শতবর্ষী বৃদ্ধার ঠাঁই হয়নি। বৃদ্ধাকে খেতে-পরতে দিতে চায় না বৃদ্ধার জীবিত কোনো সন্তান কিংবা সন্তানদের ছেলে-মেয়েরা। তাই কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার মধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে গফরগাঁও-ভালুকা সড়কের ষোলহাসিয়া এলাকায় তিতাস গ্যাস অফিসসংলগ্ন একটি দোকানের সামনে বৃদ্ধা হাসিনা বেগমকে তারা ফেলে রেখে যায়।

বুধবার ভোরে একটি ছালার ভেতরে সারা শরীর ও বাইরে মুখ বের করা অবস্থায় হাসিনা বেগমকে দেখতে পায় পথচারীরা। তারা গফরগাঁও থানা পুলিশকে খবর দিলে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পুলিশ বৃদ্ধার সেছলে দুলাল (৬২) ও দুলালের মেয়ের জামাই আনোয়ার হোসেনকে (৪০) আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বৃদ্ধার ছেলে সাহিদ ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া গ্রামে বাস করে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। তার দুই চোখ বেয়ে অশ্রু নেমে আসছে। তিনি কী যেন বলতে চাইছেন। কিন্তু শতবর্ষীর ক্ষীণ কণ্ঠে তা বোঝা যাচ্ছে না। বৃদ্ধার বাড়ি হাসপাতাল থেকে আধা কিলোমিটারের মধ্যে হলেও বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নেওয়ার ৫ ঘণ্টার মধ্যে তার পরিবারের কোনো সদস্য কিংবা কোনো আত্মীয়স্বজন দেখতে হাসপাতালে যায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, ৩০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে সংসারের হাল ধরে রেখেছিলেন হাসিনা বেগম। এখন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। চলাফেরাও করতে পারেন না তিনি। ছেলে ও পরিবারের লোকজনের কাছে হয়তো বোঝা হয়ে গেছেন তিনি।

গফরগাঁও থানার ওসি অনুকুল সরকার বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে বৃদ্ধা হাসিনা বেগমকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এখন বৃদ্ধাকে তার ছেলেদের কাছে কিংবা নাতিদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বৃদ্ধার যাতে কোনো অযত্ন না হয় সেজন্য থানা পুলিশ তদারকি করবে।