ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাটির নিচে ইরানের ‘মিসাইল শহর’!

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫
  • ৫৭৩ বার পড়া হয়েছে

ইরান দাবি করেছে, তারা ইতোমধ্যে একাধিক ভূগর্ভস্থ মিসাইল শহর তৈরি করে ফলেছে। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র-সমৃদ্ধ এই শহর পারস্য উপসাগরের তীর থেকেও খানিকটা গভীরে বিস্তৃত। এই শহরগুলোয় একাধিক বাঙ্কার ও ভাসমান প্ল্যাটফরমও রয়েছে।

তেহরানভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন সুবহে সাদিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন ইরানের রিভোলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীপ্রধান রিয়াল অ্যাডমিরাল আলী রেজা তানসিরি। সাক্ষাৎকারে তানসিরি বলেন, ?ইরান ভূগর্ভস্থ মিসাইল শহর তৈরি করেছে, যা পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের তীর থেকেও বেশ গভীরে বিস্তৃত।

এটা ইরানের শত্রুদের জন্য দুঃস্বপ্নের কারণ হবে বলে হুশিয়ারি করে দেন তিনি। তানসিরি বলেন, ‘আইআরজিসি এখন এই দুই উপসাগরের সর্বত্র বিচরণ করছে। ইরানের নৌবাহিনীর ২৩ হাজার সদস্য ও ৪২৮টির মতো জাহাজ দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তসহ এখানকার সব জায়গায় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’ ইরানের এই নৌবাহিনীপ্রধান আরও হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘খুব শিগগির এই মিসাইল শহরে এমন অনেক মিসাইল যোগ হবে যা শত্রুপক্ষেরও ধারণার বাইরে। এগুলো হবে অত্যন্ত আধুনিক ও শত্রুপক্ষের অনেক গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম।’

এ পর্যন্ত একাধিক ভূগর্ভস্থ মিসাইল ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছে ইরান এবং এগুলো খুবই গোপনীয় জায়গায় অবস্থিত। অত্যন্ত সুরক্ষিত একাধিক কারখানায় এসব মিসাইল ও যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করছে দেশটি। তবে এসব স্থাপনার এখন পর্যন্ত কোনো ছবি প্রকাশ করেনি দেশটির এলিট বাহিনী।

পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের গতি বাড়ানো ছাড়াও ইরান এখন পারস্য উপসাগর এবং আরব উপদ্বীপে কৌশলগত যুদ্ধ শুরু করেছে। গতবছর ইরান এই অঞ্চল থেকে বেশ কয়েকটি বিদেশি তেলবাহী জাহাজকে জব্দ করেছে। তারা হরমুজ প্রণালিতে নজরদারি করা একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তেল ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজের অন্যতম প্রধান এই যাত্রাপথের আশপাশে সম্প্রতি কয়েকটি কয়েকটি দুর্ঘটনাজনিত জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে।

যদিও এসব ঘটনার জন্য বরাবরই ইরানকে দায়ী করে আসছে বৈরী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। তার পরও এসব ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে ইরান।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

মাটির নিচে ইরানের ‘মিসাইল শহর’!

আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫

ইরান দাবি করেছে, তারা ইতোমধ্যে একাধিক ভূগর্ভস্থ মিসাইল শহর তৈরি করে ফলেছে। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র-সমৃদ্ধ এই শহর পারস্য উপসাগরের তীর থেকেও খানিকটা গভীরে বিস্তৃত। এই শহরগুলোয় একাধিক বাঙ্কার ও ভাসমান প্ল্যাটফরমও রয়েছে।

তেহরানভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন সুবহে সাদিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন ইরানের রিভোলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীপ্রধান রিয়াল অ্যাডমিরাল আলী রেজা তানসিরি। সাক্ষাৎকারে তানসিরি বলেন, ?ইরান ভূগর্ভস্থ মিসাইল শহর তৈরি করেছে, যা পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের তীর থেকেও বেশ গভীরে বিস্তৃত।

এটা ইরানের শত্রুদের জন্য দুঃস্বপ্নের কারণ হবে বলে হুশিয়ারি করে দেন তিনি। তানসিরি বলেন, ‘আইআরজিসি এখন এই দুই উপসাগরের সর্বত্র বিচরণ করছে। ইরানের নৌবাহিনীর ২৩ হাজার সদস্য ও ৪২৮টির মতো জাহাজ দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তসহ এখানকার সব জায়গায় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’ ইরানের এই নৌবাহিনীপ্রধান আরও হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘খুব শিগগির এই মিসাইল শহরে এমন অনেক মিসাইল যোগ হবে যা শত্রুপক্ষেরও ধারণার বাইরে। এগুলো হবে অত্যন্ত আধুনিক ও শত্রুপক্ষের অনেক গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম।’

এ পর্যন্ত একাধিক ভূগর্ভস্থ মিসাইল ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছে ইরান এবং এগুলো খুবই গোপনীয় জায়গায় অবস্থিত। অত্যন্ত সুরক্ষিত একাধিক কারখানায় এসব মিসাইল ও যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করছে দেশটি। তবে এসব স্থাপনার এখন পর্যন্ত কোনো ছবি প্রকাশ করেনি দেশটির এলিট বাহিনী।

পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের গতি বাড়ানো ছাড়াও ইরান এখন পারস্য উপসাগর এবং আরব উপদ্বীপে কৌশলগত যুদ্ধ শুরু করেছে। গতবছর ইরান এই অঞ্চল থেকে বেশ কয়েকটি বিদেশি তেলবাহী জাহাজকে জব্দ করেছে। তারা হরমুজ প্রণালিতে নজরদারি করা একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তেল ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজের অন্যতম প্রধান এই যাত্রাপথের আশপাশে সম্প্রতি কয়েকটি কয়েকটি দুর্ঘটনাজনিত জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে।

যদিও এসব ঘটনার জন্য বরাবরই ইরানকে দায়ী করে আসছে বৈরী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। তার পরও এসব ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে ইরান।