ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে ইসলাম বিতর্কে ইসলামী স্কলার জায়েদের পরামর্শ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪
  • ৪৪৫ বার পড়া হয়েছে

ফ্রান্সে চরমপন্থী ইসলাম নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার সমাধানসূত্রের সন্ধান দিলেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার আবু জায়েদ।
সম্প্রতি ফরাসি প্রশাসন দেশ জুড়ে ৮০টি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে। ধর্মীয় চরমপন্থা প্রচারের অভিযোগে মসজিদগুলি বন্ধ করা হয়েছে। যার জেরে ফ্রান্সে মুসলিমদের সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব আরো তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার মুহম্মদ আবু জায়েদ শান্তি প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিলেন ফরাসি সরকার এবং দেশের মুসলিম জনগণকে। বললেন, আলোচনাই একমাত্র রাস্তা।

লেবাননের সব চেয়ে বড় মসজিদের প্রধান জায়েদ। এর আগে শার্লে এবদো কার্টুন বিতর্কেও সরব হয়েছিলেন তিনি। অ্যামেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম বিষয়ক পাঠ্যক্রম পড়িয়েছেন তিনি। ইউরোপে তাঁকে বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার বলেই মনে করা হয়। সম্প্রতি ডিডাব্লিউকে তিনি জানিয়েছেন, তিনটি বিষয়ে এই মুহূর্তে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ফরাসি প্রশাসন যে ভাবে মসজিদ বন্ধ করে দিচ্ছে, তাতে সমস্যা আরো বাড়বে বলেই তিনি মনে করেন। কারণ, মানুষ প্রার্থনা করতে মসজিদে যাবেনই। জরুরি বিষয় হলো, মসজিদগুলির ইমামদের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত যোগাযোগ। মসজিদগুলিতে কী হচ্ছে, কী বলা হচ্ছে, সরকার তা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। তা হলেই সমস্যার সুরাহা হয়।

গত ২১ অক্টোবর প্যাটিকে মরনোত্তর লিজিয়ন অফ অনারে ভূষিত করে প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ বলেন, ”আমরা কার্টুন ছাড়বো না৷ ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে রক্ষা করতে গিয়ে প্যাটি জীবন দিয়েছেন । তিনি এই প্রজাতন্ত্রের মুখ।”

অন্য দিকে, ফ্রান্সের মুসলিম জনগণের প্রতি তাঁর পরামর্শ– কেউ পাকিস্তান, কেউ ভারত, কেউ তুরস্ক বা আরব বিশ্ব থেকে ফ্রান্সে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেছেন। ফ্রান্সে থাকতে হলে সে দেশের সংস্কৃতি মেনেই চলতে হবে। নিজের দেশের সংস্কৃতি সেখানে থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। মুসলিম নাগরিকদের মানিয়ে নিতে হবে। জায়েদের বক্তব্য, ফ্রান্সে প্রশাসন এবং মুসলিম নাগরিক দুইপক্ষই আপস মীমাংসায় যাচ্ছেন না। আলোচনা না করলে সমস্যার সমাধান হওয়া মুশকিল।

ফ্রান্সে প্রায় ছয় মিলিয়ন মুসলিম থাকেন। ইউরোপে সর্বোচ্চ। প্রায় ২৮০০ মসজিদ আছে সেখানে। সম্প্রতি সেখানে শার্লি এবদোর বিতর্কিত কার্টুন দেখিয়ে ক্লাসে পড়াচ্ছিলেন এক শিক্ষক। মুসলিম চরমপন্থীরা ওই শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করেন। তারপরেই দেশ জুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ চরমপন্থী ইসলামের বিরুদ্ধে সরব হন। মাক্রোঁর মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ফ্রান্সের সংঘাত শুরু হয়। সেই বিতর্কের সমাধানসূত্রের পথই দেখালেন জায়েদ।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্রান্সে ইসলাম বিতর্কে ইসলামী স্কলার জায়েদের পরামর্শ

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

ফ্রান্সে চরমপন্থী ইসলাম নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার সমাধানসূত্রের সন্ধান দিলেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার আবু জায়েদ।
সম্প্রতি ফরাসি প্রশাসন দেশ জুড়ে ৮০টি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে। ধর্মীয় চরমপন্থা প্রচারের অভিযোগে মসজিদগুলি বন্ধ করা হয়েছে। যার জেরে ফ্রান্সে মুসলিমদের সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব আরো তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার মুহম্মদ আবু জায়েদ শান্তি প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিলেন ফরাসি সরকার এবং দেশের মুসলিম জনগণকে। বললেন, আলোচনাই একমাত্র রাস্তা।

লেবাননের সব চেয়ে বড় মসজিদের প্রধান জায়েদ। এর আগে শার্লে এবদো কার্টুন বিতর্কেও সরব হয়েছিলেন তিনি। অ্যামেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম বিষয়ক পাঠ্যক্রম পড়িয়েছেন তিনি। ইউরোপে তাঁকে বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার বলেই মনে করা হয়। সম্প্রতি ডিডাব্লিউকে তিনি জানিয়েছেন, তিনটি বিষয়ে এই মুহূর্তে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ফরাসি প্রশাসন যে ভাবে মসজিদ বন্ধ করে দিচ্ছে, তাতে সমস্যা আরো বাড়বে বলেই তিনি মনে করেন। কারণ, মানুষ প্রার্থনা করতে মসজিদে যাবেনই। জরুরি বিষয় হলো, মসজিদগুলির ইমামদের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত যোগাযোগ। মসজিদগুলিতে কী হচ্ছে, কী বলা হচ্ছে, সরকার তা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। তা হলেই সমস্যার সুরাহা হয়।

গত ২১ অক্টোবর প্যাটিকে মরনোত্তর লিজিয়ন অফ অনারে ভূষিত করে প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ বলেন, ”আমরা কার্টুন ছাড়বো না৷ ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে রক্ষা করতে গিয়ে প্যাটি জীবন দিয়েছেন । তিনি এই প্রজাতন্ত্রের মুখ।”

অন্য দিকে, ফ্রান্সের মুসলিম জনগণের প্রতি তাঁর পরামর্শ– কেউ পাকিস্তান, কেউ ভারত, কেউ তুরস্ক বা আরব বিশ্ব থেকে ফ্রান্সে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেছেন। ফ্রান্সে থাকতে হলে সে দেশের সংস্কৃতি মেনেই চলতে হবে। নিজের দেশের সংস্কৃতি সেখানে থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। মুসলিম নাগরিকদের মানিয়ে নিতে হবে। জায়েদের বক্তব্য, ফ্রান্সে প্রশাসন এবং মুসলিম নাগরিক দুইপক্ষই আপস মীমাংসায় যাচ্ছেন না। আলোচনা না করলে সমস্যার সমাধান হওয়া মুশকিল।

ফ্রান্সে প্রায় ছয় মিলিয়ন মুসলিম থাকেন। ইউরোপে সর্বোচ্চ। প্রায় ২৮০০ মসজিদ আছে সেখানে। সম্প্রতি সেখানে শার্লি এবদোর বিতর্কিত কার্টুন দেখিয়ে ক্লাসে পড়াচ্ছিলেন এক শিক্ষক। মুসলিম চরমপন্থীরা ওই শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করেন। তারপরেই দেশ জুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ চরমপন্থী ইসলামের বিরুদ্ধে সরব হন। মাক্রোঁর মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ফ্রান্সের সংঘাত শুরু হয়। সেই বিতর্কের সমাধানসূত্রের পথই দেখালেন জায়েদ।