ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগের ভাড়ায় ফিরতে রাজি গণপরিবহন মালিকরা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৩
  • ৪৪১ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে পূর্বের ন্যায় সাধারণ ভাড়ায় ফিরতে সম্মত হয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা। করোনার কারণে জারি করা বর্ধিত ভাড়ার নির্দেশনা মন্ত্রণালয় থেকে বাতিলের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর আগের সাধারণ ভাড়ায় গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকরা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে গণপরিবহন মালিকদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ ভাড়ায় গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান বাংলাদেশ বাস পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।

তিনি বলেন, ‘পূর্বের ভাড়ায় ফিরে আসার ব্যাপারে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। যেহেতু যাত্রীরা চাচ্ছেন না, সরকারও এ ব্যাপারে আগ্রহী আর আমরা তো চেয়েই আসছি। সবমিলিয়ে পূর্বের ভাড়ায় ফিরে আসার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা। তবে এক্ষেত্রে যেহেতু প্রতিটি সিটেই বসবে যাত্রী, তাই সুরক্ষানীতি কঠোরভাবে মেনে চলার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যাত্রী এবং বাসকর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে। আমরা ১ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্বের ভাড়ায় ফিরতে সুরক্ষানীতি মেনে প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে বাস মালিকদের বলে দিয়েছি।’

এর আগে গত ৩১ মে সরকার আন্তঃজেলা বাস পরিষেবাসহ সকল বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মোট আসনের অর্ধেক যাত্রীকে নিয়ে যানবাহন চলাচলের শর্ত হিসেবে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেখা যায়, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ভাড়াও নেয়া হচ্ছে বর্ধিত হারে। এজন্য বিভিন্ন সংগঠন থেকে বর্ধিত ভাড়া বাতিলের দাবি ওঠে।

এ প্রসঙ্গে গত ২৫ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‌‘সরকার করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়। গাড়ির আসন সংখ্যা অর্ধেক খালি রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে ভাড়া সমন্বয় করে এ সময়ের জন্য। শুরুতে কিছু পরিবহন প্রতিশ্রুতি মেনে চললেও এখন অনেকেই তা মানছেন না। ঈদের প্রাক্কালে স্পষ্টভাবেই নানা অভিযোগ এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘আসন খালি ও স্বাস্থ্যবিধি না থাকলে যাত্রীসাধারণ অতিরিক্ত ভাড়া দেবে কেন? এ প্রেক্ষাপটে বিআরটিএ মালিক-শ্রমিক ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কিছু সুপারিশ তৈরি করেছে। এসব সুপারিশ মন্ত্রণালয় হয়ে কেবিনেট ডিভিশনে প্রেরণ করা হবে। কীভাবে এবং কোন শর্তে আগের ভাড়ায় ফিরে যেতে হবে বা ফিরে যেতে হবে কি-না, এসব বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে আমরা তা অবহিত করব।’

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

আগের ভাড়ায় ফিরতে রাজি গণপরিবহন মালিকরা

আপডেট সময় : ০৫:০২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৩

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে পূর্বের ন্যায় সাধারণ ভাড়ায় ফিরতে সম্মত হয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা। করোনার কারণে জারি করা বর্ধিত ভাড়ার নির্দেশনা মন্ত্রণালয় থেকে বাতিলের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর আগের সাধারণ ভাড়ায় গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকরা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে গণপরিবহন মালিকদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ ভাড়ায় গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান বাংলাদেশ বাস পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।

তিনি বলেন, ‘পূর্বের ভাড়ায় ফিরে আসার ব্যাপারে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। যেহেতু যাত্রীরা চাচ্ছেন না, সরকারও এ ব্যাপারে আগ্রহী আর আমরা তো চেয়েই আসছি। সবমিলিয়ে পূর্বের ভাড়ায় ফিরে আসার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা। তবে এক্ষেত্রে যেহেতু প্রতিটি সিটেই বসবে যাত্রী, তাই সুরক্ষানীতি কঠোরভাবে মেনে চলার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যাত্রী এবং বাসকর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে। আমরা ১ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্বের ভাড়ায় ফিরতে সুরক্ষানীতি মেনে প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে বাস মালিকদের বলে দিয়েছি।’

এর আগে গত ৩১ মে সরকার আন্তঃজেলা বাস পরিষেবাসহ সকল বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মোট আসনের অর্ধেক যাত্রীকে নিয়ে যানবাহন চলাচলের শর্ত হিসেবে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেখা যায়, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ভাড়াও নেয়া হচ্ছে বর্ধিত হারে। এজন্য বিভিন্ন সংগঠন থেকে বর্ধিত ভাড়া বাতিলের দাবি ওঠে।

এ প্রসঙ্গে গত ২৫ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‌‘সরকার করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়। গাড়ির আসন সংখ্যা অর্ধেক খালি রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে ভাড়া সমন্বয় করে এ সময়ের জন্য। শুরুতে কিছু পরিবহন প্রতিশ্রুতি মেনে চললেও এখন অনেকেই তা মানছেন না। ঈদের প্রাক্কালে স্পষ্টভাবেই নানা অভিযোগ এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘আসন খালি ও স্বাস্থ্যবিধি না থাকলে যাত্রীসাধারণ অতিরিক্ত ভাড়া দেবে কেন? এ প্রেক্ষাপটে বিআরটিএ মালিক-শ্রমিক ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কিছু সুপারিশ তৈরি করেছে। এসব সুপারিশ মন্ত্রণালয় হয়ে কেবিনেট ডিভিশনে প্রেরণ করা হবে। কীভাবে এবং কোন শর্তে আগের ভাড়ায় ফিরে যেতে হবে বা ফিরে যেতে হবে কি-না, এসব বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে আমরা তা অবহিত করব।’