ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবশেষে খিচুড়ি প্রশিক্ষণে বিদেশযাত্রা বাতিল

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৩
  • ৪১৫ বার পড়া হয়েছে

ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার ব্যবস্থাপনা দেখতে ৫০০ কর্মকর্তাকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাবটি বাতিল করতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

বলা হয়েছে, করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি মাথায় রেখে কোনো প্রকল্পেই বিদেশ ভ্রমণ খাত রাখা হচ্ছে না।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের সপ্তাহে তিন দিন খিচুড়ি ও তিন দিন বিস্কুট (মিড ডে মিল) দেবে সরকার। এ জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি প্রায় ১৯ হাজার ২৮২ কোটি টাকার কর্মসূচি হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার, যা আগামী জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

এই প্রকল্পের অধীনে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পাঁচ বছরে মোট ৫০০ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যার জন্য ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ কোটি টাকা।

দুটি খাত বাতিলের বিষয় নিয়ে আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার ঘোষ গণমাধ্যমকে বলেন, কেউ আমাদের কাছে একটি আবদার করলেই হবে না। আমরা একনেকের (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) অনুশাসনের বাইরে যেতে পারব না। বর্তমানে করোনা সংকট চলছে। কোনো প্রকল্পেই বিদেশ ভ্রমণের খাত রাখা হচ্ছে না। তাহলে এ প্রকল্পে সেটা কেন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রশিক্ষণ খাতও বাতিল করা হয়েছে। জনগণের এক টাকাও অপচয় করতে দেওয়া হবে না। তাই ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব বাতিল করতে বলা হয়েছে। তবে দেশে প্রশিক্ষণের জন্য হয়তো ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা রাখা হবে। প্রকল্পের অন্যান্য খাতও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অনেক খাত বাতিল করাসহ ব্যয় কমাতে বলেছি। আবার কিছু খাত বাড়াতেও বলেছি। প্রকল্পটি ৫০৯টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে। আমরা যদি দেখি একটি বা দুটি উপজেলা বাড়াতে হবে, তবে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

বর্তমানে ৩৩ লাখের মতো শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। বিভিন্ন কারণে তারা স্কুলে যাচ্ছে না। খাবার বিতরণের ফলে শিশুরা স্কুলে যাবে এবং তাদের পুষ্টিগত সমস্যা নিরসন হবে বলে দাবি ডিপিইর। ১৯ হাজার ২৮২ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থীকে খাদ্য সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সপ্তাহে তিনদিন শিক্ষার্থীদের দুপুরে খিচুড়ি-ডিম ও সবজি দেওয়া হবে। বাকি তিন দিন দেওয়া হবে পুষ্টিকর বিস্কুট।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খিচুড়ি প্রশিক্ষণে বিদেশযাত্রা বাতিল

আপডেট সময় : ০৫:০৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৩

ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার ব্যবস্থাপনা দেখতে ৫০০ কর্মকর্তাকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাবটি বাতিল করতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

বলা হয়েছে, করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি মাথায় রেখে কোনো প্রকল্পেই বিদেশ ভ্রমণ খাত রাখা হচ্ছে না।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের সপ্তাহে তিন দিন খিচুড়ি ও তিন দিন বিস্কুট (মিড ডে মিল) দেবে সরকার। এ জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি প্রায় ১৯ হাজার ২৮২ কোটি টাকার কর্মসূচি হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার, যা আগামী জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

এই প্রকল্পের অধীনে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পাঁচ বছরে মোট ৫০০ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যার জন্য ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ কোটি টাকা।

দুটি খাত বাতিলের বিষয় নিয়ে আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার ঘোষ গণমাধ্যমকে বলেন, কেউ আমাদের কাছে একটি আবদার করলেই হবে না। আমরা একনেকের (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) অনুশাসনের বাইরে যেতে পারব না। বর্তমানে করোনা সংকট চলছে। কোনো প্রকল্পেই বিদেশ ভ্রমণের খাত রাখা হচ্ছে না। তাহলে এ প্রকল্পে সেটা কেন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রশিক্ষণ খাতও বাতিল করা হয়েছে। জনগণের এক টাকাও অপচয় করতে দেওয়া হবে না। তাই ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব বাতিল করতে বলা হয়েছে। তবে দেশে প্রশিক্ষণের জন্য হয়তো ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা রাখা হবে। প্রকল্পের অন্যান্য খাতও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অনেক খাত বাতিল করাসহ ব্যয় কমাতে বলেছি। আবার কিছু খাত বাড়াতেও বলেছি। প্রকল্পটি ৫০৯টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে। আমরা যদি দেখি একটি বা দুটি উপজেলা বাড়াতে হবে, তবে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

বর্তমানে ৩৩ লাখের মতো শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। বিভিন্ন কারণে তারা স্কুলে যাচ্ছে না। খাবার বিতরণের ফলে শিশুরা স্কুলে যাবে এবং তাদের পুষ্টিগত সমস্যা নিরসন হবে বলে দাবি ডিপিইর। ১৯ হাজার ২৮২ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থীকে খাদ্য সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সপ্তাহে তিনদিন শিক্ষার্থীদের দুপুরে খিচুড়ি-ডিম ও সবজি দেওয়া হবে। বাকি তিন দিন দেওয়া হবে পুষ্টিকর বিস্কুট।