ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মমতার জয়ে ঝুঁকিতে মোদির আধিপত্য

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪
  • ২৮১ বার পড়া হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এই হারে জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব পড়বে।

গত মাসে পাঁচটি বিধানসভার নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনেই সবার নজর ছিল বেশি। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ছিল তিক্ততায় ভরা। ভারতের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় রাজ্যটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সব ধরনের ঝুঁকিই নিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব।-খবর আরব নিউজের

রাজ্যটির আট পর্বের ভোটে ৩৮টি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনগণের ভোট নিশ্চিত করতে তার মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য মাসখানেক পশ্চিমবঙ্গেই অবস্থান করেছিলেন।

ভোটের ফলে দেখা গেছে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১৩টিতে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার দলটি তিনটি আসন বেশি পেয়েছে।

বিজেপি পেয়েছে ৭৭টি আসন। আগেরবারের তুলনায় বিজেপি এবার ভালো করতে পারেনি। তৃণমূল নেত্রী অনন্য চক্রবর্তী বলেন, এটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ জয়। পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক শক্তির পদযাত্রা আমার আটকে দিতে পেরেছি।

তিনি বলেন, বিজেপিকে পরাজিত করে আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখেছি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলে মোদির রাজনৈতিক জাদু বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। সাধারণ মানুষ বিজেপির ওপর বিরক্ত বলেই নির্বাচনে এমন ফল এসেছে।

দিল্লিভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুধীন্দ্র কুলকারনি বলেন, এই প্রথমবারের মতো মোদির আধিপত্য চূড়ান্তভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

১৯৯৯ সালে বিজেপি যখন ভারতে প্রথম সরকার গঠন করে, তখন দলটির রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন সুধীন্দ্র।

তিনি বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে বিজেপির ইতিহাসে কোনো রাজ্যেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে লড়াই করেনি দলটি। এই রাজ্যটিতে জয়ী হওয়ার জন্য মোদি সব ধরনের ঝুঁকি নিয়েছেন। কিন্তু তারা মাত্র ৭৭টি আসন পেয়েছে।

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, তৃণমূলের এই জয় বিরোধীদের মনে আশা জাগিয়েছে যে, বিজেপিও হারতে পারে। আমি পূর্বাভাস দিয়েছিলাম, আসছে মাসগুলোতে বিরোধীদের ঐক্যে মমতা হবেন মূল আকর্ষণ।

তবে তৃণমূল্যের বিজয় নিয়ে ‘অতিমূল্যায়নের’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন দিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাংক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভলপিং সোসাইটিজের হিলাল আহমেদ।

তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ থাকলেও গত কয়েক বছরে বিজেপি যেসব বক্তব্য হাজির করেছে, তার পাল্টা কিছু কেউ দাঁড় করাতে পারেনি। বিজেপির রাজনৈতিক ইশহারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

অনন্য চক্রবর্তী বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূলের সম্পদ সীমিত। কিন্তু এই বিজয় ভবিষ্যতে সামগ্রিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।

তবে বিজেপি বলছে, পশ্চিমবঙ্গে তারা ভালই করেছে। দলটির মুখপাত্র সুদেশ ভার্মা বলেন, বাম ও কংগ্রেসকে উৎখাত করে পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দল এখন বিজেপি। এর মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে বিজেপির জয়ের ভিত্তিভূমি তৈরি হয়ে গেছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক রাজনীতিবিদ জিম নওয়াজ বলেন, এই ফল বলে দিচ্ছে, এখানে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতার জয়ে ঝুঁকিতে মোদির আধিপত্য

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এই হারে জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব পড়বে।

গত মাসে পাঁচটি বিধানসভার নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনেই সবার নজর ছিল বেশি। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ছিল তিক্ততায় ভরা। ভারতের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় রাজ্যটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সব ধরনের ঝুঁকিই নিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব।-খবর আরব নিউজের

রাজ্যটির আট পর্বের ভোটে ৩৮টি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনগণের ভোট নিশ্চিত করতে তার মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য মাসখানেক পশ্চিমবঙ্গেই অবস্থান করেছিলেন।

ভোটের ফলে দেখা গেছে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১৩টিতে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার দলটি তিনটি আসন বেশি পেয়েছে।

বিজেপি পেয়েছে ৭৭টি আসন। আগেরবারের তুলনায় বিজেপি এবার ভালো করতে পারেনি। তৃণমূল নেত্রী অনন্য চক্রবর্তী বলেন, এটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ জয়। পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক শক্তির পদযাত্রা আমার আটকে দিতে পেরেছি।

তিনি বলেন, বিজেপিকে পরাজিত করে আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখেছি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলে মোদির রাজনৈতিক জাদু বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। সাধারণ মানুষ বিজেপির ওপর বিরক্ত বলেই নির্বাচনে এমন ফল এসেছে।

দিল্লিভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুধীন্দ্র কুলকারনি বলেন, এই প্রথমবারের মতো মোদির আধিপত্য চূড়ান্তভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

১৯৯৯ সালে বিজেপি যখন ভারতে প্রথম সরকার গঠন করে, তখন দলটির রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন সুধীন্দ্র।

তিনি বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে বিজেপির ইতিহাসে কোনো রাজ্যেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে লড়াই করেনি দলটি। এই রাজ্যটিতে জয়ী হওয়ার জন্য মোদি সব ধরনের ঝুঁকি নিয়েছেন। কিন্তু তারা মাত্র ৭৭টি আসন পেয়েছে।

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, তৃণমূলের এই জয় বিরোধীদের মনে আশা জাগিয়েছে যে, বিজেপিও হারতে পারে। আমি পূর্বাভাস দিয়েছিলাম, আসছে মাসগুলোতে বিরোধীদের ঐক্যে মমতা হবেন মূল আকর্ষণ।

তবে তৃণমূল্যের বিজয় নিয়ে ‘অতিমূল্যায়নের’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন দিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাংক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভলপিং সোসাইটিজের হিলাল আহমেদ।

তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ থাকলেও গত কয়েক বছরে বিজেপি যেসব বক্তব্য হাজির করেছে, তার পাল্টা কিছু কেউ দাঁড় করাতে পারেনি। বিজেপির রাজনৈতিক ইশহারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

অনন্য চক্রবর্তী বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূলের সম্পদ সীমিত। কিন্তু এই বিজয় ভবিষ্যতে সামগ্রিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।

তবে বিজেপি বলছে, পশ্চিমবঙ্গে তারা ভালই করেছে। দলটির মুখপাত্র সুদেশ ভার্মা বলেন, বাম ও কংগ্রেসকে উৎখাত করে পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দল এখন বিজেপি। এর মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে বিজেপির জয়ের ভিত্তিভূমি তৈরি হয়ে গেছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক রাজনীতিবিদ জিম নওয়াজ বলেন, এই ফল বলে দিচ্ছে, এখানে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।