ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুইলচেয়ারের ক্ষমতা-দেখিয়ে দিলেন মমতা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪
  • ৩৮৯ বার পড়া হয়েছে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দখলেই রইলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। বিধানসভা নির্বাচনের সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস। রোববার (২ মে) সকাল থেকে চলছে ভোট গণনা।এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১৫টিতে জিতেছে তৃণমূল আর বিজেপি জয় পেয়েছে ৭৫টি আসনে।দুটি কেন্দ্রের ভোট গণনা স্থগিত রয়েছে।

ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তৃণমূলের প্রয়োজন ছিল ১৪৮টি আসনের।এই জয়ের ফলে তৃতীয় বারের জন্য ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসবেন।

এই পরিসংখ্যানেই জয় সম্পর্কে নিশ্চিত তৃণমূল। তবে ভারতে করোনা যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তাতে এটা উচ্ছ্বাস দেখানোর সময় নয় বলে জানিয়েছেন মমতা সরকারের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

তার মতে, ‘এই জয়ে কোনো বিজয় মিছিল হবে না। এটা আনন্দ করার সময় নয়। রাজ্যে কত মানুষ মারা যাচ্ছেন। আমার নিজের অনেক আত্মীয় মারা গিয়েছেন। এমনকি যারা আমাকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই নেই। এই অবস্থায় বিজয় মিছিল বা আনন্দ করার মতো মানসিক অবস্থা নেই আমার।’

তবে দলের এমন নির্দেশনার পরও পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে শুরু হয়েছে উল্লাস।তৃতীয়বার জয়ের দিকে তারা এগিয়ে গিয়েছেন, এই ধরে নিয়েই আনন্দে গা ভাসিয়েছে তৃণমূল দলের সমর্থকরা।

এদিকে মমতার এমন জয়রথে আনন্দবাজারের অচিন্ত্য বিশ্বাস লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা অতুলনীয়। রীতিমতো তাঞ্জামে চেপে শুন্ডি দেশের যাত্রী ওস্তাদ গাইয়ের মতো। বাঘা কি সাধে বলেছিল, ‘কী দাপট!’ হুইল চেয়ারের তাঞ্জামে চড়েই দেশের প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দু’তিনটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ডেলি প্যাসেঞ্জার করিয়ে ছাড়লেন।’

নির্বাচনী প্রচারণার সময় গত ১০ মার্চ চার-পাঁচজন মিলে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন মমতাকে।সেসময় তার মাথা, কপাল এবং পায়ে চোট লাগে। সেই থেকে হুইল চেয়ারে বসে চালিয়ে যান নির্বাচনী প্রচার।চষে বেড়ান গোটা রাজ্য। অসময়ে হুইলচেয়ারই যেন হয়ে ওঠে তার শক্তি।

এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেছিলেন, বিজেপি আমাকে ঘরবন্দী করে রাখতে চেয়েছিল যাতে আমি নির্বাচনের সময় বাইরে বের হতে না পারি। তারা (বিজেপি) আমার পায়ে আঘাত করেছে। কিন্তু, তারা আমার কণ্ঠস্বর রুখতে পারবে না, আমরা বিজেপিকে পরাজিত করব।শেষমেষ হুইলচেয়ারের শক্তি দেখিয়েই দিলেন তিনি।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

হুইলচেয়ারের ক্ষমতা-দেখিয়ে দিলেন মমতা

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দখলেই রইলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। বিধানসভা নির্বাচনের সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস। রোববার (২ মে) সকাল থেকে চলছে ভোট গণনা।এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১৫টিতে জিতেছে তৃণমূল আর বিজেপি জয় পেয়েছে ৭৫টি আসনে।দুটি কেন্দ্রের ভোট গণনা স্থগিত রয়েছে।

ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তৃণমূলের প্রয়োজন ছিল ১৪৮টি আসনের।এই জয়ের ফলে তৃতীয় বারের জন্য ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসবেন।

এই পরিসংখ্যানেই জয় সম্পর্কে নিশ্চিত তৃণমূল। তবে ভারতে করোনা যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তাতে এটা উচ্ছ্বাস দেখানোর সময় নয় বলে জানিয়েছেন মমতা সরকারের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

তার মতে, ‘এই জয়ে কোনো বিজয় মিছিল হবে না। এটা আনন্দ করার সময় নয়। রাজ্যে কত মানুষ মারা যাচ্ছেন। আমার নিজের অনেক আত্মীয় মারা গিয়েছেন। এমনকি যারা আমাকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই নেই। এই অবস্থায় বিজয় মিছিল বা আনন্দ করার মতো মানসিক অবস্থা নেই আমার।’

তবে দলের এমন নির্দেশনার পরও পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে শুরু হয়েছে উল্লাস।তৃতীয়বার জয়ের দিকে তারা এগিয়ে গিয়েছেন, এই ধরে নিয়েই আনন্দে গা ভাসিয়েছে তৃণমূল দলের সমর্থকরা।

এদিকে মমতার এমন জয়রথে আনন্দবাজারের অচিন্ত্য বিশ্বাস লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা অতুলনীয়। রীতিমতো তাঞ্জামে চেপে শুন্ডি দেশের যাত্রী ওস্তাদ গাইয়ের মতো। বাঘা কি সাধে বলেছিল, ‘কী দাপট!’ হুইল চেয়ারের তাঞ্জামে চড়েই দেশের প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দু’তিনটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ডেলি প্যাসেঞ্জার করিয়ে ছাড়লেন।’

নির্বাচনী প্রচারণার সময় গত ১০ মার্চ চার-পাঁচজন মিলে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন মমতাকে।সেসময় তার মাথা, কপাল এবং পায়ে চোট লাগে। সেই থেকে হুইল চেয়ারে বসে চালিয়ে যান নির্বাচনী প্রচার।চষে বেড়ান গোটা রাজ্য। অসময়ে হুইলচেয়ারই যেন হয়ে ওঠে তার শক্তি।

এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেছিলেন, বিজেপি আমাকে ঘরবন্দী করে রাখতে চেয়েছিল যাতে আমি নির্বাচনের সময় বাইরে বের হতে না পারি। তারা (বিজেপি) আমার পায়ে আঘাত করেছে। কিন্তু, তারা আমার কণ্ঠস্বর রুখতে পারবে না, আমরা বিজেপিকে পরাজিত করব।শেষমেষ হুইলচেয়ারের শক্তি দেখিয়েই দিলেন তিনি।