ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভ্যাকসিন পাসপোর্ট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে আমেরিকা-ইউরোপ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪
  • ৫০৫ বার পড়া হয়েছে

করোনা মহামারীর মধ্যে বৈশ্বিক চলাচল নিরাপদ করতে ডিজিটাল ‘করোনা ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে আমেরিকা, ব্রিটেন, সুইডেন এবং ডেনমার্ক। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এ সুবিধা নেয়ার জন্য করোনা টিকা গ্রহণকারীরা তাদের টিকা নেয়ার সনদ দেখিয়ে ভ্যাকসিন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ব্রিটেন, ডেনমার্ক এবং সুইডেন ইতোমধ্যে টিকা দেয়ার জন্য কিছু ফর্ম ও ডিজিটাল শংসাপত্রের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলাচ্ছে ইইউ।

করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সরকারি সংস্থাগুলোকে করোনা ভ্যাকসিনের শংসাপত্র অন্যান্য টিকার নথির সাথে সংযুক্ত করার কথা বলেছেন এবং সেগুলোর ডিজিটাল সংস্করণ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলেছেন। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে’র এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘সরকার নথিবদ্ধ করার উপায়গুলো অনুসন্ধান করছে, যা যাত্রীদের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান করা হয়েছে, তা প্রমাণ করার সুযোগ দেবে।’ সুইডেনের ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রী আন্দেস ইজেমান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আগামীতে ভ্রমণে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আসছে গ্রীষ্মে ব্যতিক্রমধর্মী এ পাসপোর্টের প্রচলন শুরু হবে।’ এদিকে, ডেনমার্ক সরকার গত বুধবার জানিয়েছে, আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে তারা প্রথমবারের মতো ‘করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ চালু করবে, যা দেশটির নাগরিকদের করোনা টিকা সংক্রান্ত তথ্য বহন করবে।

কেবল সরকারগুলোই যে ভ্যাকসিন পাসপোর্টের পরামর্শ দিচ্ছে তা নয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এতিহাদ এবং এমিরেটস এয়ারওয়েজ তাদের যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিচালনা করার জন্য এবং বিমান সংস্থা ও সরকারগুলোকে তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করতে সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সমিতির নির্মিত একটি ডিজিটাল ভ্রমণ পাস ব্যবহার শুরু করবে, যার মাধ্যমে জানা যাবে যে, যাত্রীরা করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন বা টিকা নিয়েছেন কি না।

এ ক্ষেত্রে এ মুহূর্তে সব থেবে বড় চ্যালেঞ্জ হ’ল, বিশ্বব্যাপী গৃহীত এমন একটি অ্যাপ তৈরি করা, যা মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করবে এবং ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে স্মার্টফোনে সহজে অ্যাপটি ব্যবহার করার সুযোগ করে দেবে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্র্যান্সপোর্ট এসোসিয়েশস (আই.এ.টি.এ)-এর ট্র্যাভেল পাস উদ্যোগের নেতৃত্ব দানকারী এবং যাত্রী, কার্গো এবং সুরক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নিক ক্যারেন বলেছেন, ‘যা এখন ঘটছে, তা একটি প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজ করার প্রচেষ্টা এবং এটিকে এমন কিছুতে পরিণত করা, যা আরও স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের সুযোগ করে দেবে, বিভিন্ন চেকপয়েন্টে বিভিন্ন দেশের জন্য বিভিন্ন কাগজপত্র এবং বিভিন্ন নথি বহন করা ছাড়াই মানুষের ভ্রমণ আরও সহজ করে দেবে।’

আই.এ.টি.এ. হ’ল বেশ কয়েকটি সংস্থার মধ্যে অন্যতম, যারা বছরের পর বছর ধরে ভ্রমণ শংসাপত্র প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার জন্য ডিজিটাল সমাধানগুলোতে কাজ করছে। আই.এ.টি.এ’র পাশাপাশি আইবিএম তার নিজস্ব ডিজিটাল হেল্থ পাস তৈরির কাজ করছে, যা ব্যক্তিদের স্পোর্টস স্টেডিয়াম, বিমান, বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্মক্ষেত্রের মতো কোনও জনবহুল স্থানগুলোতে টিকা দেয়ার বা নেতিবাচক পরীক্ষার প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম করবে। আইবিএমের ব্লকচেইন প্রযুক্তিতে নির্মিত এই পাসটি তাপমাত্রা যাচাই, ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাব্যতার সতর্কতা, করোনা পরীক্ষার ফলাফল এবং ভ্যাকসিনের গ্রহণ সম্পর্কে একাধিক তথ্য বহন করতে সক্ষম হবে।

এছাড়া, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এবং একটি সুইস অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কমন্স প্রজেক্ট ফাউন্ডেশনও যৌথভাবে কমন পাস নামে একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য পাসপোর্টের ওপর পরীক্ষা চালাচ্ছে, যা কর্তৃপক্ষকে ভ্রমণকারীদের করোনা পরীক্ষা বা ভ্যাকসিনের তথ্য দেখার অনুমতি দেবে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

ভ্যাকসিন পাসপোর্ট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে আমেরিকা-ইউরোপ

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

করোনা মহামারীর মধ্যে বৈশ্বিক চলাচল নিরাপদ করতে ডিজিটাল ‘করোনা ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে আমেরিকা, ব্রিটেন, সুইডেন এবং ডেনমার্ক। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এ সুবিধা নেয়ার জন্য করোনা টিকা গ্রহণকারীরা তাদের টিকা নেয়ার সনদ দেখিয়ে ভ্যাকসিন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ব্রিটেন, ডেনমার্ক এবং সুইডেন ইতোমধ্যে টিকা দেয়ার জন্য কিছু ফর্ম ও ডিজিটাল শংসাপত্রের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলাচ্ছে ইইউ।

করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সরকারি সংস্থাগুলোকে করোনা ভ্যাকসিনের শংসাপত্র অন্যান্য টিকার নথির সাথে সংযুক্ত করার কথা বলেছেন এবং সেগুলোর ডিজিটাল সংস্করণ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলেছেন। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে’র এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘সরকার নথিবদ্ধ করার উপায়গুলো অনুসন্ধান করছে, যা যাত্রীদের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান করা হয়েছে, তা প্রমাণ করার সুযোগ দেবে।’ সুইডেনের ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রী আন্দেস ইজেমান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আগামীতে ভ্রমণে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আসছে গ্রীষ্মে ব্যতিক্রমধর্মী এ পাসপোর্টের প্রচলন শুরু হবে।’ এদিকে, ডেনমার্ক সরকার গত বুধবার জানিয়েছে, আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে তারা প্রথমবারের মতো ‘করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ চালু করবে, যা দেশটির নাগরিকদের করোনা টিকা সংক্রান্ত তথ্য বহন করবে।

কেবল সরকারগুলোই যে ভ্যাকসিন পাসপোর্টের পরামর্শ দিচ্ছে তা নয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এতিহাদ এবং এমিরেটস এয়ারওয়েজ তাদের যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিচালনা করার জন্য এবং বিমান সংস্থা ও সরকারগুলোকে তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করতে সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সমিতির নির্মিত একটি ডিজিটাল ভ্রমণ পাস ব্যবহার শুরু করবে, যার মাধ্যমে জানা যাবে যে, যাত্রীরা করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন বা টিকা নিয়েছেন কি না।

এ ক্ষেত্রে এ মুহূর্তে সব থেবে বড় চ্যালেঞ্জ হ’ল, বিশ্বব্যাপী গৃহীত এমন একটি অ্যাপ তৈরি করা, যা মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করবে এবং ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে স্মার্টফোনে সহজে অ্যাপটি ব্যবহার করার সুযোগ করে দেবে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্র্যান্সপোর্ট এসোসিয়েশস (আই.এ.টি.এ)-এর ট্র্যাভেল পাস উদ্যোগের নেতৃত্ব দানকারী এবং যাত্রী, কার্গো এবং সুরক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নিক ক্যারেন বলেছেন, ‘যা এখন ঘটছে, তা একটি প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজ করার প্রচেষ্টা এবং এটিকে এমন কিছুতে পরিণত করা, যা আরও স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের সুযোগ করে দেবে, বিভিন্ন চেকপয়েন্টে বিভিন্ন দেশের জন্য বিভিন্ন কাগজপত্র এবং বিভিন্ন নথি বহন করা ছাড়াই মানুষের ভ্রমণ আরও সহজ করে দেবে।’

আই.এ.টি.এ. হ’ল বেশ কয়েকটি সংস্থার মধ্যে অন্যতম, যারা বছরের পর বছর ধরে ভ্রমণ শংসাপত্র প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার জন্য ডিজিটাল সমাধানগুলোতে কাজ করছে। আই.এ.টি.এ’র পাশাপাশি আইবিএম তার নিজস্ব ডিজিটাল হেল্থ পাস তৈরির কাজ করছে, যা ব্যক্তিদের স্পোর্টস স্টেডিয়াম, বিমান, বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্মক্ষেত্রের মতো কোনও জনবহুল স্থানগুলোতে টিকা দেয়ার বা নেতিবাচক পরীক্ষার প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম করবে। আইবিএমের ব্লকচেইন প্রযুক্তিতে নির্মিত এই পাসটি তাপমাত্রা যাচাই, ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাব্যতার সতর্কতা, করোনা পরীক্ষার ফলাফল এবং ভ্যাকসিনের গ্রহণ সম্পর্কে একাধিক তথ্য বহন করতে সক্ষম হবে।

এছাড়া, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এবং একটি সুইস অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কমন্স প্রজেক্ট ফাউন্ডেশনও যৌথভাবে কমন পাস নামে একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য পাসপোর্টের ওপর পরীক্ষা চালাচ্ছে, যা কর্তৃপক্ষকে ভ্রমণকারীদের করোনা পরীক্ষা বা ভ্যাকসিনের তথ্য দেখার অনুমতি দেবে।