ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনাকালে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ; করোনা মোকাবিলায় বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫
  • ৫৭৩ বার পড়া হয়েছে

করোনাকালে ২০২০-২১ অর্থবছরের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেখান থেকে করোনা মোকাবিলায় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। আর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮.২ শতাংশ।
৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট যা জিডিপির ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।
কোভিড মহামারীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে আগের বারের মতো ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির বড় লক্ষ্য ধরে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যা বাস্তবায়ন করতে গেলে তাকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে, নির্ভর করতে হবে ঋণের উপর।
কৃষকের ৪ শতাংশ সুদে ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ নিয়ে আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই
চলতি অর্থ বছরের জন্যও ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছিল। কিন্তু কোভিডের কারণে আগামী বাজেটে এ চ্যালেঞ্জ বেশ কঠিন মনে করা হচ্ছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা পুরোপুরি আত্মপ্রত্যয়ী ছিলাম যে এ বছর আমাদের অর্থনীতিতে সেরা প্রবৃদ্ধিটি উপহার দিতে পারব। আমাদের ইপ্সিত লক্ষ্যমাত্রাটি ছিল ৮ দশমিক ২ থেকে ৮ দশমিক ৩ ভাগ।
বৃহস্পতিবার তিনটায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হওয়ার পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বাজেট বক্তব্য শুরু করেন। এসময় অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যের কিছু অংশ পঠিত বলে গণ্য করার অনুরোধ জানালে স্পিকার অনুমতি দেন। বাজেট বক্তব্যের দুটি অংশ ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেট উপস্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ অধিবেশনে যোগ দেননি।
কোভিডের কারণে সংসদ অধিবেশন কক্ষের ভেতরে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সাময়িকভাবে আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা ছিল।
এবার বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক মিশনগুলোর প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, প্রধান বিচারপতিসহ, গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধান, বিভিন্ন পেশাজীবী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিকসহ বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীদেরও সুযোগ দেয়া হয়নি সংবাদ সংগ্রহরে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্যরা নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করেন।
বাজেট উপস্থাপনের পর অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল অর্থবিল ২০২০ সংসদে উপস্থাপন করবেন। এরপর আজকের অধিবেশন শেষ হবে। পরে বাজেটের উপর আলোচনা শেষে ২৯ জুন সোমবার পাস হবে অর্থবিল। পরদিন ৩০ জুন মূল বাজেট এবং নির্দিষ্টকরণ বিল পাস হবে। এরপর আরেকটি বিরতি দিয়ে ৮ বা ৯ জুলাই একদিনের জন্য অধিবেশন বসে সেদিনই অধিবেশনের সমাপ্তি টানা হতে পারে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Raihan

জনপ্রিয় সংবাদ

করোনাকালে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ; করোনা মোকাবিলায় বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় : ১১:২৮:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫

করোনাকালে ২০২০-২১ অর্থবছরের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেখান থেকে করোনা মোকাবিলায় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। আর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮.২ শতাংশ।
৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট যা জিডিপির ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।
কোভিড মহামারীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে আগের বারের মতো ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির বড় লক্ষ্য ধরে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যা বাস্তবায়ন করতে গেলে তাকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে, নির্ভর করতে হবে ঋণের উপর।
কৃষকের ৪ শতাংশ সুদে ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ নিয়ে আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই
চলতি অর্থ বছরের জন্যও ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছিল। কিন্তু কোভিডের কারণে আগামী বাজেটে এ চ্যালেঞ্জ বেশ কঠিন মনে করা হচ্ছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা পুরোপুরি আত্মপ্রত্যয়ী ছিলাম যে এ বছর আমাদের অর্থনীতিতে সেরা প্রবৃদ্ধিটি উপহার দিতে পারব। আমাদের ইপ্সিত লক্ষ্যমাত্রাটি ছিল ৮ দশমিক ২ থেকে ৮ দশমিক ৩ ভাগ।
বৃহস্পতিবার তিনটায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হওয়ার পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বাজেট বক্তব্য শুরু করেন। এসময় অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যের কিছু অংশ পঠিত বলে গণ্য করার অনুরোধ জানালে স্পিকার অনুমতি দেন। বাজেট বক্তব্যের দুটি অংশ ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেট উপস্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ অধিবেশনে যোগ দেননি।
কোভিডের কারণে সংসদ অধিবেশন কক্ষের ভেতরে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সাময়িকভাবে আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা ছিল।
এবার বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক মিশনগুলোর প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, প্রধান বিচারপতিসহ, গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধান, বিভিন্ন পেশাজীবী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিকসহ বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীদেরও সুযোগ দেয়া হয়নি সংবাদ সংগ্রহরে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্যরা নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করেন।
বাজেট উপস্থাপনের পর অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল অর্থবিল ২০২০ সংসদে উপস্থাপন করবেন। এরপর আজকের অধিবেশন শেষ হবে। পরে বাজেটের উপর আলোচনা শেষে ২৯ জুন সোমবার পাস হবে অর্থবিল। পরদিন ৩০ জুন মূল বাজেট এবং নির্দিষ্টকরণ বিল পাস হবে। এরপর আরেকটি বিরতি দিয়ে ৮ বা ৯ জুলাই একদিনের জন্য অধিবেশন বসে সেদিনই অধিবেশনের সমাপ্তি টানা হতে পারে।